সাবমেরিন
সাবমেরিন এমন একটি জলযান, যা ইচ্ছামত পানির উপরে অথবা গভীর সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অক্লেশে যাতায়াত করতে পারে। এটিও একটি যুদ্ধযান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সমুদ্রে শত্রুপক্ষীয় জাহাজগুলিকে ধ্বংস করার কাজে সাবমেরিন টর্পেডােকে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাবমেরিনকে বাংলায় বলা হয় ডুবােজাহাজ। সাবমেরিনের আকৃতি অনেকটা সাধারণ জলযানের মত। মাঝখানটা মােটা এবং দুদিকে ক্রমশঃ সরু। এর সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য, সাধারণ জলযানের মত ওর বাইরের খােল মাত্র একটা থাকে না। খােলের একটা বহিরাবরণ থাকে এবং দুই আবরণের মধ্যবর্তী স্থান থাকে ফাকা। বাইরের আবরণ অপেক্ষা ভেতরের আবরণ আরও শক্ত এবং আরও মজবুত। ফাকা অংশটুকু পানি বা বাতাস দিয়ে পূর্ণ করে রাখা হয়।
পানির ভেতরে ওঠানামা করতে হয় বলে সাবমেরিনে কতকগুলাে পানির ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা হয়। পানিতে ডােবার প্রয়ােজন হলে স্বয়ংক্রিয় মেসিনের দ্বারা ট্যাঙ্কগুলিকে পানিতে ভর্তি করে নেওয়া হয়। ফলে আপনা হতেই পানিতে ডুবে যায় সাবমেরিন। পানির তলা থেকে উপরে উঠতে হলে ট্যাঙ্কগুলােকে খালি করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র।
সাবমেরিন চালানাের জন্য দু-রকম ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পানির উপর দিয়ে যখন অগ্রসর হয়, তখন ব্যবহার করা হয় ডিজেল ইঞ্জিন। পানির তলা দিয়ে যাওয়ার সময় ডিজেল ইঞ্জিন কাজ করতে পারে না। তার একমাত্র কারণ, পানির তলায় বাতাস নেই এবং বাতাসের অভাবে ডিজেল ইঞ্জিন ক্রিয়া করতে পারে না। সেই কারণে পানির তলায় সাবমেরিনকে চালাতে হলে ইলেকট্রিক মােটরের প্রয়ােজন হয়।
পানির তলায় অবস্থানকালে সমুদ্রের উপরের দৃশ্য অবলােকন করার জন্য ব্যবহার করা হয় পেরিস্কোপ নামে একটি বস্তু। আর বাতাস সংগ্রহের জন্য দরকার হয় সুরফেল নামে একটি ফাঁপা নলবিশিষ্ট যন্ত্র। ইঞ্জিন চলাকালে যে শব্দ উৎপন্ন হয়, তাকেও প্রতিরােধ করার ব্যবস্থা থাকে। কেননা শব্দ হলে দূর থেকে শত্রুপক্ষ সাবধান হয়ে যাবে।
সাবমেরিন মাঝে মাঝে বিপদেও পড়ে। তাই তার চালকদের নিরাপত্তার জন্য একটা বিশেষ বায়ুপূর্ণ প্রকোষ্ঠ সাবমেরিনের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
সাবমেরিন বা ডুবােজাহাজ আবিষ্কৃত হয়েছে ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে। প্রথম बবােজাহাজটির মাম ছিল ফুলটন। রবাট ফুলটন নামে একজন জাহাজ কাৱত উক্ত গান তৈরি করেছিলেন বলে আবির্তক নামানুসারে এই নাম। এই জাহাজটিকে ঠিক ঠিক সাবমেরিন বলা যায় না। তবে ফুলটন সমুলের ফলশ ডুব দিয়ে অবস্থান করতে পারত। পরে সাইমন লেক সুমত্তয় তলায় চালনা করার ব্যবস্থা করে সাবমেরিনের উন্নত রুপ দান করেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উতপক্ষই ব্যবহার করেছিল ইঞ্জিনযুক্ত ডুবােজাহাজ বা সাবমেরিন। তবে দ্বিতীয় বিশ্বমহাযুদ্ধের সময় সাবমেহনকে ধ্বংস করার উপায় আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশেষতঃ রেডার আবিষ্কৃত হওয়ায় অতি সহজভাবে সমুদ্রর তলদেশে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিনের খোঁজ পাওয়া যেতাে।
অংসের হাত থেকে সাবমেরিনকে রক্ষা করার জনাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুকে আরও উন্নত করা হয়েছে। বর্তমানে আবার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সাবমেরিন চালনার কাজে পরমাণুশক্তিকে নিয়ােগ করেছেন। এই প্রচেষ্টা প্রথম ফলপ্রসূ হয়েছিল ১৯৫৫ খ্রীষ্টাব্দে। তারপরে আরও উন্নতি সাধন করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
আজকাল আমেরিকা কর্তৃক নির্মিত ভুবােজাহাজগুলাে মাসের পর মাস সমুদ্রের তলায় ডুবে থাকতে পারে। আমেরিকার দেখাদেখি বৃটিশ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান প্রভৃতি দেশগুলিও পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ করার জন্য তৎপর হয়েছে।

