পেনসিল
একবার ঝড়ে পরে আখাল বাকরা বন মেষ চরতে গিয়ে এক জায়গায় দেখল, মস্ত বড় একটা গাছ শেকড়-বাকড় উপড়ে ভুলে শুয়ে আছে মাটিতে, আত্ব তলায় সৃষ্টি হয়েছে একটা গর্তের মত। সেই বৃত্তটার ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অস্ত্র কালাে অংক চকচকে কী সব পদার্থ। আখল হাশক এমন িনি কখনাে দেখেনি। তারা কৌতুহলী হয়ে বেশ কয়েকহানা শুকিয়ে আম, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল, পারের গায়ে ঘষে ঘষে পরন্থ হল, বঙেও যখন কই কই। খুব তেলতেলে এবং মসৃণও।
রাখাল বালকা জিনিসটাকে সনাক্ত করছে প্রায় না। তবে বুঝতে পারব। সােনাপার মত মূল্যবান কিছু নয়। শুধু কোথাও বের ১মৎকার কালো দাগ পড়ে এবং সে দাগকে সহজে মুছে ফেলা যায় না। তৎন বুদ্ধি ওই তারা টুকটি করে সংগ্রহ করল, আর পত্রত্বের ভেড়ালের হাতে কাজ করতে অসুবিধা হয়, তার জন্য যে যায় ভেড়ার গায়ে ইচ্ছে মত এক এক ক ১১ ও দিলে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল খ্রীায় ধষ্ঠ শভাব্দীর দিকে। পরে ঐ বৎং মাহমে অদ্ভুত সেই জিনিসটার কথা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তখন শিল্পীয়াই ছবি আ জন্য লুফে নিলেন জিনিসটাকে।
এইভাবে চলে আসছিল অনেককাল। কেউ নাম প্রামী না, ১ জানারও চেষ্টা করেননি। পরে রসায়নবিজ্ঞানের উন্নতি ঘটলে মানুষ বুঝতে পারলাে, চকচকে কালাে ও মসৃণ এই পদার্থটি কাই এট । ৩ সাহায্যে লেখা যায় বলে নাম হির হলাে গ্রাফাইট। এটি ঐ এং শটি অর্থ 'আমি লিখি'। কতকাল পরে মাত্র ১৭৮৯ খখে মম ২। আগে বলা যেত 'ব্ল্যাক লেড বা কালাে শীতে। শীতে অংশ ছাড়। কখতে নীলাভ সাদা এবং সীসে যে কোন জায়গায় কালাে দাগ (ইবতে পারে। সেই মত এটিও কালাে দাগ রেখে যায় এবং কালো , তাই নামকণ হয়েছিল।
প্রথম প্রথম প্রাফাইটের ৫ কেটি ন র ও পল্লনিক ও হার গুণের কথা প্রকাশ পায়। মাটির পাত্র উপর প্রলেপ নিতে মরিচা রােধের জন্য লােহার পায়ে আন্তরণ ফেলতে, তাপসহা ধাতুগলনের পাত্র তৈরি করতে, তড়িৎ দার হিসেবে,ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রে গ্রাফাইটের ডাক পড়লাে। প্রতিটি দেশ এবার বুঝতে পারলো, গ্রাফাইট খনি জাতীয় সম্পদবিশেষ। হেলাফেলার বস্তু নয় এবং খেয়াল খুশিমত ওকে ব্যবহার করাও উচিত নয়। তাই যেখানেই গ্রাফাইটের খনি আবিষ্কৃত হলো, সেইখানেই সংরক্ষণের কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলাে।
এতকাল মানুষ এক একটা আস্ত গ্রাফাইটের টুকরাকেই লেখার কাজে ব্যবহার করতাে। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা হওয়ায় আর সহজলভ্য হলাে না। কিনতে গেলে দামও লাগলাে যথেষ্ট। তাই বলে লেখার এমন এক সুন্দর উপাদানকে পরিত্যাগ করতে পারলে না। প্রচেষ্টা চললাে কম গ্রাফাইট খরচ করে লেখার এই উপাদানটাকে ঠিক রাখা। আর তখনই শুরু হলাে পেনসিল তৈরির ভাবনা।
প্রথমে পেন্সিল উৎপাদন করেছিল জার্মানীর নুরেনবার্গের একটি ব্যবসায়িক সংস্থা। গ্রাফাইট চূর্ণ করে সালফার বা গন্ধকের সাথে মিশিয়ে তৈরি করেছিল সরু ও লম্বা শিষ। শিষটা যাতে লিখতে লিখতে ভেঙ্গে না যায়-তার জন্য ঐ শিষটাকে কাঠের আবরণের ভেতরে আঠা দিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেকটা আজকের পেন্সিলের মতই দেখতে ছিল।
সব দেশে লেখার এই সহজ সরঞ্জামটার চাহিদা ছিল প্রচুর। অফিসে- আদালতে , স্কুল-কলেজে এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে ও ওর ডাক পরলো। নেপােলিয়ানের রাজত্বকালে সব সময় যুদ্ধবিগ্রহ চলতাে বলে দরকার হতাে রাশি রাশি পেন্সিল। কিন্তু এত পেন্সিলের উপাদান সেই গ্রাফাইট পাওয়া যাবে কোথায়?
নেপােলিয়ান নিজেই চিন্তিত হলেন। নিকোলাস জ্যাকস্ বাতে নামে এক বিজ্ঞানীকে নির্দেশ দিলেন, যেমন করে হােক নামে মাত্র গ্রাফাইট খরচ করে তিনি যেন লেখার পেন্সিল উদ্ভাবন করেন।
বাঁতে নেপােলিয়নের আদেশ এবং আর্থিক সাহায্য পেয়ে শুরু করলেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অবশেষে স্বল্প গ্রাফাইট চূর্ণের সঙ্গে এক জাতীয় কাদা মিশিয়ে এবং পরে পুড়িয়ে নিয়ে তৈরি করলেন এক অনবদ্য পেন্সিলের শিষ। ওতে লেখা আরও ভাল হলাে এবং গ্রাফাইটের খরচও কমলাে।
বাঁতের পদ্ধতিকে নিয়ে পরের দিকে গবেষণা করেন ভিয়েনার হার্টমুখ নামে এক বিজ্ঞানী। তিনিই কাদা এবং গ্রাফাইট চূর্ণের অনুপাত বাড়িয়ে ও কমিয়ে তৈরি করেন হার্ড পেন্সিল ও সফট পেন্সিল।